Craftsocially শারদ সম্মান ২০২১
এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন
“আমার রাত পোহাল, শারদপ্রাতে…“—কবিগুরুর এই লাইনগুলোই যেন বাঙালির সবথেকে বড় উৎসবের আগমনী বার্তা। আশ্বিনের এই ভোরের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকৃতি যখন পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘে নীল আকাশ সাজায়, তখন বাঙালির মন নেচে ওঠে। নদীর স্রোত বয়ে চলে মোহনার দিকে, আর সবুজ ঘাসের সাথে কাশফুল যেন এক নতুন বন্ধুত্ব পাতিয়েছে। শিশিরভেজা শিউলি ফুল আর ছাতিমের মিষ্টি গন্ধে ভরে ওঠে চারপাশ। পদ্ম আর শাপলা ফুল জলাধারে নিজেদের সৌন্দর্য মেলে ধরে, যেন সাদা ক্যানভাসে রঙের খেলা চলছে। এই অপরূপ সৌন্দর্যই আমাদের কাছে বারবার ফিরে আসে শরৎ রূপে।
এই শরৎকালে উমা তাঁর বাপের বাড়িতে আসছেন, তাই গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সব জায়গায় এক উৎসবের আমেজ। প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে সেজে ওঠে, আর শিল্পীরা নিজেদের শৈল্পিক প্রতিভায় এই উৎসবকে আরও সুন্দর করে তোলেন। প্রতিমা, মণ্ডপ, আলোকসজ্জা—সবকিছু মিলিয়ে শারদ উৎসব বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে পরিণত হয়। এই উৎসবের নেপথ্যে যাঁরা থাকেন, সেই উদ্যোক্তারা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, একে আরও সুন্দর করে তোলার জন্য। তাঁদের এই প্রচেষ্টা ও ত্যাগকে সম্মান জানাতেই “Craftsocially শারদ সম্মান ২০২১”।
এই সম্মাননা শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটি তাঁদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। এই স্মারকটি সম্পূর্ণভাবে একটি শাপলা ফুলের প্রতিরূপ, যেখানে পাপড়িগুলো নিজেদের মহিমায় উজ্জ্বল। আর তার ঠিক মাঝখানে সপরিবারে বিরাজ করছেন মা দুর্গা। প্রকৃতি যেভাবে শরৎকে নিজের গর্ভে ধারণ করে, তেমনি এই শাপলা ফুলের গর্ভে অধিষ্ঠিত আছেন স্বয়ং মা দুর্গা। এটি যেন মা এবং প্রকৃতির এক অসাধারণ মেলবন্ধন, যা এই উৎসবের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই সম্মাননা সেইসব মানুষদের জন্য, যাঁরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতা ও পরিশ্রমে এই উৎসবকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন।